যে ভাবে নবজাতকের যত্ন নিবেন

একটি শিশু জন্ম নেয়ার সাথে সাথে একটি নতুন পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার উপযোগী করে তোলার জন্য বেশ কিছু যত্নের প্রয়োজন হয়। জন্মের থেকে ২৮ দিন পর্যন্তকে নবজাতক বলা হয়।
একটি নবজাতককে তখনই সুস্থ বা স্বাস্থ্যবান শিশু বলা যায়, যখন সে –
  • গর্ভের ৩৭-৪২ সপ্তাহ পূর্ণ করে জন্মায়।
  • জন্মের পরপরই কাঁদে।
  • কোনো সাহায্য ছাড়াই নিঃশ্বাস নেয়।
  • ওজন ২.৫ কিঃ গ্রাঃ বা তার উপরে হয়।
  • তাড়াতাড়ি পারিপার্শ্বিকতার সাথে মানিয়ে নিতে পারে।
অপরিণত শিশু:
যখন কোনো শিশু গর্ভের ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই জন্মগ্রহণ করে তখন তাকে অপরিণত শিশু বলে। অপরিণত শিশুর বৈশিষ্ট্যঃ
  • ওজন ২৫০০ গ্রামের কম
  • মাথা ও পেট আকারে বড় দেখায়
  • মাথার হাড়গুলো নরম হয় এবং দুই হাড়ের মাঝখানে বেশি ফাঁক থাকে
  • বুকের চেয়ে মাথা বড় দেখায়
  • চোখ বন্ধ থাকে
  • চামড়া পাতলা ও লালা চকচকে হয়
  • মাংসের শক্তি কম থাকে
  • আস্তে আস্তে কাঁদে
  • শ্বাস- প্রশ্বাস দ্রুত এবং অনিয়মিত হয়
  • মায়ের স্তন চুষতে কষ্ট হয়
  • কম প্রস্রাব হয় এবং কম আহার হয়।
সূত্রঃ প্রজনন স্বাস্থ্য সহায়িকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউ এন এফ পি এ, ২০০২
প্রথম ৪৮ ঘন্টা / প্রথম সপ্তাহের যত্ন
জন্মের পরপরই নবজাতকে প্রয়োজনীয় যত্ন করতে হবে। কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে হলে –
  • জন্মের সাথে সাথে শিশুকে শুকনো নরম কাপড় দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে মুছে নিন
  • আরেকটি পরিষ্কার শুকনো কাপড়ে মাথা ও শরীর জড়িয়ে রাখুন
  • দেরি না করে নবজাতককে মায়ের বুকে দিন
  • জন্মের ৩ দিনের মধ্যে কোনোভাবেই শিশুকে গোসল করানো যাবে না ।
নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে হলে
  • জন্মের সাথে সাথে শিশুকে শুকনো নরম কাপড় দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে মুছতে হবে।
  • আরেকটি পরিষ্কার শুকনো কাপড়ে মাথা ও শরীর জড়িয়ে রাখতে হবে।
  • দেরি না করে নবজাতককে মায়ের বুকে দিতে হবে। মায়ের শরীরের উষ্ণতা নবজাতকের জন্য প্রয়োজন।
  • জন্মের ৩ দিনের মধ্যে কোনোভাবেই শিশুকে গোসল করানো যাবে না ।
জন্মের ২৮ দিন পর্যন্ত নবজাতকের বিপদচিহ্ন সমূহ
  • দ্রুত শ্বাস নেয়া অথবা বুকের খাঁচা দেবে যাওয়া
  • বুকের দুধ টানতে না পারা অথবা নেতিয়ে পড়া
  • জ্বর বা শরীর ঠান্ডা হওয়া
  • খিঁচুনি
  • নাভিপাকা
এক্ষেত্রে যা করতে হবে
  • মা ও পরিবারের সদস্যদের বিপদচিহ্ন চিনতে হবে
  • বিপদ লক্ষণ দেখা দিলেই শিশুকে তাৎক্ষণিক নিকটতম সেবাকেন্দ্রে বা সেবাদানকারীর নিকট নিয়ে যেতে হবে
শ্বাসকষ্ট
জন্মের সময় স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে এমন শিশুরও পরে শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা হতে পারে। সংক্রমণ, হৃৎপিণ্ড অথবা ফুসফুসের রোগ, শরীরের উচ্চ অথবা নিম্ন তাপমাত্রা অথবা অন্যান্য অসুস্থতার জন্যও শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।
শ্বাসকষ্টের লক্ষণঃ
  • দ্রুত শ্বাস (প্রতি মিনিটে ৬০ বা তার বেশি)
  • বুকের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে দেবে যাওয়া
বুকের দুধ টানতে না পারা
মা যদি বলেন শিশু জন্মের পর ঠিকমত খেতো কিন্তু বর্তমানে আগের মত খাচ্ছে না বা বুকের দুধ টানতে পারছে না ও নেতিয়ে পড়ছে, তাহলে বুঝতে হবে শিশুর মারাত্মক রোগ আছে। এ অবস্থায় শিশুর মায়ের দুধ খাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে ও শিশুকে সেবাদান কেন্দ্রে রেফার করতে হবে ।
বুকের দুধ টানতে না পারা
মা যদি বলেন শিশু জন্মের পর ঠিকমত খেত কিন্তু বর্তমানে আগের মত খাচ্ছে না বা বুকের দুধ টানতে পারছে না ও নেতিয়ে পড়ছে, তাহলে বুঝতে হবে শিশুর মারাক্মক রোগ আছে। এ অবস্থায় শিশুর মায়ের দুধ খাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে ও শিশুকে সেবাদান কেন্দ্রে রেফার করতে হবে ।
জ্বর বা শরীর ঠান্ডা হওয়া
জ্বর (৩৭.৫ ডিগ্রি সেঃ বা ৯৯.৫ ডিগ্রি ফাঃ এর বেশি তাপমাত্রা) –
নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেঃ বা ৯৯.৫ ডিগ্রি ফাঃ এর উপরে উঠে গেলে জ্বর বা উচ্চ তাপমাত্রা বলা হ । উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পানি ঘাটতি অথবা শরীরের পানি কমে যায়, খিঁচুনি হতে পারে, শরীর অসাড় হয়ে যেতে পারে, সংজ্ঞাহীন এমনকি মৃত্যুও হতে পারে । অতি সত্বর নবজাতককে রেফার করতে হবে ।
নিম্ন তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেঃ বা ৯৫.৫ ডিগ্রি ফাঃ এর কম তাপমাত্রা) –
শরীরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেঃ বা ৯৫.৫ ডিগ্রি ফাঃ এর নিচে নেমে গেলে সেই তাপমাত্রা হল নিম্ন তাপমাত্রা (হাইপোথার্মিয়া) । তাপমাত্রা রক্ষার ব্যবস্থা না নিলে জন্মের পরপরই নবজাতকের নিম্ন তাপমাত্রা হতে (হাইপোথার্মিয়া) পারে । ঘরের তাপমাত্রা কম, নবজাতকের শরীর ভেজা, নবজাতককে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে না রাখলে, অপরিণত ও কম-জন্ম-ওজনের নবজাতকের ক্ষেত্রে নিম্ন তাপমাত্রা হতে পারে । প্রসবের ঘরের তাপমাত্রা যাতে ঠান্ডা না থাকে, সেজন্য জন্মের পরপর শিশুকে শুষ্ক ও উষ্ণ রেখে, মায়ের বুকের সাথে লাগিয়ে (Skin to skin contact) বা ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (KMC) পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং রেফার করার প্রয়োজন হলে যাবার পথে মাঝখানে কাপড় না রেখে মা অথবা অন্যকারো বুকের সাথে শিশুকে লাগিয়ে রেখে নিম্ন তাপমাত্রা রোধ করতে হবে ।
শিশুর নিম্ন তাপমাত্রা যদি দ্রুত সনাক্ত করা না যায় এবং চিকিৎসা করা না হয়, তবে শিশুর অবস্থার অবনতি এমনকি মৃত্যুও হতে পারে ।
হাইপোথার্মিয়া প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা –
  • নবজাতকে জন্মের পরপরই মুছে শুষ্ক করা ।
  • জন্মের পরপর অন্তত ২ ঘণ্টা ত্বকে ত্বক লাগিয়ে রাখা।
  • নবজাতকের মাথা ও শরীর শুষ্ক কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে উষ্ণ রাখা।
  • জন্মের পর ৩দিন শিশুকে গোসল না করানো।
খিঁচুনি
বিভিন্ন অসুস্থতায় অনেক সময় শিশুর হাত-পা শক্ত হয়ে যায়, তাকে খিঁচুনি বলে। খিঁচুনির সময় শিশু অজ্ঞান হয়ে যায় এবং সে সময় ডাকলে অথবা নাড়া দিলে সে কোনো সাড়া দেয় না। বিভিন্ন কারণে শিশুর খিঁচুনি হতে পারে । অতিরক্ত জ্বরের সময় প্রায়ই শিশুদের খিঁচুনি হয়। তাই জ্বরের সাথে খিঁচুনি হলে বা অন্য যে কোন কারণে খিঁচুনি হলেই তা বিপদজনক চিহ্ন মনে করে দ্রুত সেবাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে ।
নাভিপাকাঃ
নাভির সংক্রমণের চিকিৎসায় বিলম্ব হলে অথবা সঠিক চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শিশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে। নাভিতে কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজন নেই ।
নাভির সংক্রমণের লক্ষণ-
  • নাভি থেকে পুঁজ পড়া
  • নাভির চারদিকে চামড়া পর্যন্ত লাল হয়ে যাওয়া
  • নাভিতে দুর্গন্ধ
নাভির যত্ন-
  • লক্ষ্য রাখতে হবে যে নাভিতে কোনো সংক্রমণ আছে কি-না। যেমন- নাভির গোড়ার চারদিকে লাল যা পেটের চামড়া পর্যন্ত বিস্তৃত, নাভি থেকে ঘন পুঁজ, দেরিতে নাভি পড়া ইত্যাদি। সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে নাভি পড়ে যায় ।
  • নাভি শুকনো, পরিষ্কার ও খোলামেলা রাখতে হবে ।
  • নাভিতে কোনো কিছু লাগানো যাবে না ।
  • যদি সংক্রমণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত সেবাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে ।
জন্ডিস
অধিকাংশ নবজাতক বিশেষ করে অপরিণত শিশুদের যকৃত অপরিণত থাকে বলে পিত্তরসে যথেষ্ট বিলিরুবিন নিঃসরণ করতে পারে না। ফলে বিলিরুবিন রক্তে চলে আসে এবং শিশুর জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়। এই জন্ডিসকে শরীরবৃত্তীয় জন্ডিস বলে। জন্মের ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বিশেষ করে মাথা ও মুখ হলুদ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে শিশুর সমস্ত শরীর হলুদ বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত ১-২ সপ্তাহের মধ্যে শরীরের রং স্বাভাবিক হয়ে আসে। জন্ডিস যেন মারাত্বক আকার ধারণ না করে সেজন্য শিশুকে –
  • শিশুকে প্রতিদিন খালি গায়ে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রোদে রাখতে হবে (এ সময় শিশুর চোখ ও মাথা ঢেকে দিতে হবে।
  • শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ দিতে হবে।
  • তবে যদি জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু যদি জন্ডিসে আক্রান্ত হয় এবং জন্ডিসের সাথে অন্যান্য লক্ষণ যেমন- দ্রব্লতা, নিস্তেজ হয়ে যাওয়া, বুকের দুধ না খাওয়া ইত্যাদি থাকে তবে জরুরি ভিত্তিতে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
সূত্রঃ প্রজনন স্বাস্থ্য সহায়িকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউ এন এফ পি এ, ২০০২
সমস্যা চিহ্নিতকরণ
বেশিরভাগ শিশুই সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করে । জন্মের পর শিশুকে খুব দ্রুত সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয় । সেজন্য শিশু জন্মের প্রথম কয়েক ঘন্টার যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পরিবারের লোকজন নবজাতকের বিপদজনক চিহ্নগুলো সম্পর্কে জানে না, তাই এসম্পর্কে তারা সময়মত সচেতন হয় না ও উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে না । সেবাদানকারীদের জন্য কিছু সম্ভাব্য সমস্যা ও সমস্যার সমাধান নিম্নে দেয়া হলোঃ
সমস্যাগুলো
  • নাড়ির কাটা অংশের চারদিকে এবং নাভির চারপাশে পেটের চামড়া লাল হয়ে যাওয়া ।
  • নাড়ি কাটার পর কোন কিছু লাগানো বা ব্যবহার করা ।
  • নবজাতকের বিপদচিহ্ন দেখা দিলে চিকিৎসা না করা বা চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে যাওয়া বা সেবাদানকেন্দ্রে না যাওয়া ।
উপরের সমস্যাগুলোর কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধান
  • যদি নাভিতে সংক্রমণ দেখা যায় তাহলে দ্রুত সেবাদানকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে ।
  • নাভিতে কোনো কিছু লাগানো যাবে না। নাভি শুকনো, পরিষ্কার ও খোলা রাখতে হবে ।
  • নবজাতকের বিপদচিহ্ন (শ্বাসকষ্ট, বুকের দুধ টানতে না পারা, জ্বর বা শরীর ঠান্ডা হওয়া, খিঁচুনি, নাভিপাকা) দেখা দিলে অতিসত্বর সেবাদানকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে ।
নবজাতকের জন্য জন্মের পরপরই মায়ের দুধ
শালদুধ কী?
নবজাতকের জন্য জন্মের পরপরই মায়ের দুধই একমাত্র খাবার। শিশু জন্মের পরপরই মায়ের শরীরে প্রথম ঘন আঠালো হলুদ বর্ণের যে দুধ বের হয় তাকে শালদুধ বলে ।
শালদুধের উপকারিতা
  • শালদুধ শিশুর জন্য প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে এবনহ শিশুকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।
  • শালদুধ পরিমাণে কম হলেও শিশুর জন্য যথেষ্ট ও পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগায় ।
  • শালদুধ খাওয়ালে শিশুর রাতকানা, জন্ডিস ও অন্যান্য রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে ।
  • শালদুধ খাওয়ালে মা এবং শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে।
  • শালদুধ খাওয়ালে মায়ের প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ কম হয় এবং জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে ।
শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা
শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো বলতে বুঝায় শিশুকে পূর্ণ ছয় মাস কেবলমাত্র বুকের দুধই খাওয়ানো। এসময় একফোঁটা পানিরও প্রয়োজন নেই ।
শিশুর জন্য
  • ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য অসুখ-বিসুখ কম হয় ।
  • অপুষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে ।
  • শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে ।
মায়ের জন্য
  • জন্মের পরপরই মায়ের দুধ খাওয়ালে রক্তক্ষরণ কম হয়, তাই মা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায় ।
  • মায়ের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম থাকে ।
  • পূর্ণ ৬ মাস দিনে ও রাতে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ালে পুনরায় গর্ভধারণের সম্ভাবনাও কম থাকে । মা ও শিশু উভয়ের জন্য
  • মায়ের দুধ খাওয়ালে মায়ের সাথে শিশুর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে । পরিবারের জন্য
  • মায়ের দুধ খাওয়ালে পরিবারের খরচ বাঁচে ।
মায়ের দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি
  • মায়ের আরামদায়ক অবস্থানঃ
  • মাকে আরাম করে বসে অথবা শুয়ে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বসা অবস্থায় পিঠ সোজা রাখতে হবে ।
  • শিশুর সঠিক অবস্থানঃ
  • শিশু মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকবে ।
  • শিশুর মাথা ও শরীর সোজা থাকবে ।
  • শিশু মায়ের স্তনের দিকে সম্পূর্ণ ফেরানো ও শিশুর নাক স্তনের বোঁটার বিপরীত দিকে থাকবে ।
  • শিশুর পুরো শরীর আগলে রাখতে হবে ।
  • স্তনের সাথে শিশুর সঠিক সংযোজন
সংযোজনের আগে স্তনের বোঁটা উপরের ঠোঁটে বারে বারে লাগাতে হবে। শিশু বড় হাঁ করলে তাকে স্তনে লাগাতে হবে এবং নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবেঃ
  • থুতনি ও নাক স্তনের সাথে লেগে থাকবে ।
  • বড় করে মুখ খোলা থাকবে ।
  • শিশুর নিচের ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো থাকবে ।
  • এরিওলা (বোঁটার চারপার্শ্বের কালো অংশ) নিচের দিকের চেয়ে মুখের উপরের দিকে বেশি দেখা যাবে ।
  • মায়ের বুকের দুধ খেতে শিশুর অসুবিধা হলে বারবার চেষ্টা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।
  • গর্ভফুল পড়ার অপেক্ষা না করে তাড়াতাড়ি শিশুকে মায়ের বুকের শালদুধ খাওয়ান ।
  • ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধই শিশুর একমাত্র খাদ্য ও পানীয়। দুধ খাওয়াতে মাকে উৎসাহ দিন ।
  • ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার যেমন গরু, ছাগলের দুধ, কৌটার দুধ, পানি, মধু ইত্যাদি কিছুই দেয়া যাবে না ।

প্রসব জনিত ফিস্টুলা , জরায়ু এবং স্তন ক্যান্সার

বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্থ প্রসবের সময় যদি বাচ্চার মাথা যোনিপথে বেশি প্রসব প্রসবজনিত ফিস্তুলার মূল কারণ। বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্থ প্রসবের কারণে বাচ্চার মাথা যদি প্রসব পথে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে তাহলে মুত্রনালী, প্রসাবের পথ এবং পায়ুপথের নরম অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন ধরে, ফলস্বরূপ ছিদ্র হয়ে প্রসব জনিত ফিস্টুলা সৃষ্টি হয় এবং অনবরত প্রসাব বা পায়খানা ঝরতে থাকে।
প্রসব জনিত ফিস্টুলা প্রতিরোধের উপায়
  • ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে নয় এবং ২০ বছর বয়সের আগে গর্ভধারণ নয়।
  • ঘন ঘন গর্ভধারণ নয়।
  • নিয়মিত প্রসব পুর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
  • বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্থ প্রসব হলে গর্ভবতীকে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
  • দক্ষ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সেবাদানকারী দিয়ে নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করা।
চিকিৎসায় প্রসব জনিত ফিস্টুলা ভালো হয়
প্রসব জনিত ফিস্টুলা হলে তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। এর চিকিৎসা রয়েছে। প্রসব জনিত ফিস্টুলা রোগীকে হাসপাতালে পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য যেতে হবে।
জরায়ুর মুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার
বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগই জরায়ুর মুখের ক্যান্সার। এ ছাড়া অন্যতম দ্বিতীয় ক্যান্সার হচ্ছে স্তন ক্যান্সার। কিন্তু এ দুটি ক্যান্সার পরীক্ষা – নিরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং এ দুটি ক্যান্সারজনিত কারণে মহিলাদের মৃত্যু রোধ করা যায়। ৩০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সি মহিলাদের নিয়মিত হাসপাতালে অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরায়ু মুখ এবং স্তন পরীক্ষা করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। জরায়ুর মুখে ক্যান্সার হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। ফলে নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করা গেলে এ রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে পদ্ধতিতে জরায়ুর-মুখের ক্যান্সার শনাক্ত কারা হয় তাকে VIA ( Visual Inspection of Cervix with Asitic Acid), সহজ ভাষায় ভায়া বলে। এ পদ্ধতিতে জরায়ু মুখ পরীক্ষা করলে ক্যান্সার পূর্বাবস্থা সাদা রং ধারণ করে এবং রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।
স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে CBC (clinical breast examination) পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা হাত দিয়ে স্তনে কোনো চাকা বা অন্য কোনো অসুবিধা আছে কিনা তা পরীক্ষা করেন। এ ছাড়া মহিলারা বাড়িতে নিজে নিজে কিভাবে হাত দিয়ে স্তন পরীক্ষা করে চাকা আছে কিনা নির্ণয় করবেন তা SBE (self breast examination) শিখিয়ে দেয়া হয়। VIA পরীক্ষা করে একজন মহিলাকে VIA পজিটিভ বা VIA নেগেটিভ এবং SBE পরীক্ষা করে CBE পজিটিভ বা নেগেটিভ চিহ্নিত করা হয়। দুটি ক্ষেত্রেই নেগেটিভ মহিলাদের ৩ বছর পরপর স্বাস্থকেদ্রে পরীক্ষার জন্য যেতে হবে। তবে, VIA পজিটিভ এবং CBE পজিটিভ মহিলাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে হবে।
জরায়ুর মুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার হওয়ার কারণ
অল্প বয়সে বিয়ে, ঘনঘন সন্তান, নিজের বা স্বামীর একাধিক বিয়ে, এছাড়া যে সকল মহিলা নিরাপদ যৌন আচরণ ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নন, তাদের মধ্যে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। স্তন ক্যান্সার হওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস, সন্তানকে বকের দুধ না খাওয়ানো, অতিরিক্ত মোটা হওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ৩০ বছর বয়স ঊর্ধ্ব সকল মহিলাকে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
জরায়ুর মুখ ক্যান্সারের লক্ষণ
  • মাসিকের রাস্তা দিয়ে অনিয়মিত রক্তক্ষরণ।
  • মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়া।
  • স্বামী সহবাসে রক্তক্ষরণ।
  • মাসিকের রাস্তা দিয়ে সাদা ঘন অথবা ময়লা বাদামি রং এর গন্ধযুক্ত স্রাব।
  • তলপেটে ব্যথা।
স্তন ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ
  • স্তনে চাকা।
  • স্তনে ব্যথা।
  • স্তনে ক্ষত বা ঘা।
  • স্তনের বোঁটা দিয়ে পুঁজ বা রক্তাক্ত তরল নিঃসরণ।
সূত্র পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়েল, এন জেন্ডার হেলথ ২০১২

স্ট্রোক থেকে বাঁচতে ছয় বিষয় খেয়াল রাখুন।

১. দিনে অন্তত ২০ মিনিট হাঁটুন
গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ২০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস থকলে স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়আর যদি জোরে হাঁটতে পারেন, তাহলে আরো উত্তমবিশেষজ্ঞরা মতে উচ্চ গতিতে হাঁটার ফলে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো দূরঘটনা ঘটার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায় মূলত হাঁটার সময় সমস্ত শরীরে রক্তের প্রবাহে উন্নতি ঘটেফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, এবং স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমে যায়
২. মানসিক অবসাদ থেকে সাবধান
সম্প্রতি প্রায় ৮০ হাজার মানুষের উপর গবেষণায় দেখা গেছে যে,  মানসিক অবসাদের সঙ্গে স্ট্রোকের সরাসরি যোগ রয়েছেআসলে এমনটা দেখা গেছে যারা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত  রোগী, তাদের বিভিন্ন কারণে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের এধরণের রোগ হওয়ার আশংঙ্খা বেড়ে যায়আর এই রোগ দুটিই কোনো না কোনো সময় স্ট্রেককে কারণ হয়ে দাড়ায় যখনই বুঝতে পারবেন মনটা হাতের নাগালে নেই, তখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেনপ্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্টের সাহায্য নিতে ভুল করবেন না!
৩. সাত ঘণ্টার ঘুম খুবই জরুরি
হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা সাত ঘণ্টার কম সময় ঘুমাতে অভ্যস্ত তাদের স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষদের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি থাকেআসলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে ব্রেন আরাম করার সুযোগ পায় নাফলে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের ভেতরে গোলযোগ হতে শুরু করে, যা ব্রেন স্ট্রোকের পথকে প্রশস্ত করে
৪. মাইগ্রেন থেকে সাবধান
একেবারে ঠিক শুনেছেন! মাইগ্রেনের মতো মাথা যন্ত্রণার সঙ্গেও স্ট্রোকের যোগ রয়েছেকেমন সেই যোগ? বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মাইগ্রেন পেইনের সময় যদি চোখের সামনে আলোর বিচ্ছুরণ বা কালো কালো স্পটের মতো দেখা যায়, তাহলে বেশি সাবধান হতে হবেকারণ এমন ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
৫. রাঙা আলু খাওয়া শুরু করুন
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেলে স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়সেই কারণেই প্রতিদিনের ডায়েটে রাঙা আলুর পাশাপাশি কলা খাওয়ারও পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরাকারণ এই দুটি খাবারেই প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম মজুদ থাকে, যা মস্তিষ্ককে নানাবিধ ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে
৬. রাগ কমান
কথায় কথায় যারা খুব রেগে যান, তাদের ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকেতাই আপনি যদি গরম মস্তিষ্কের হন, তাহলে সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে বন্ধুকারণ এখনই যদি নিজের রাগের ওপর লাগাম পরাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

অসহ্য বাতের ব্যথা? জেনে নিন উপশমের কৌশল!

একটু বয়স বাড়লেই আমাদের অনেকেই এই সমস্যায় হয়ে থাকে। এই রোগ হলে কর্মক্ষমতা কমে পায়অথচ কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করলেই বাতের ব্যথা থেকে মুক্ত সম্ভব


কৌশলগুলো আলোচনা করা হলো:
# ব্যথার জায়গায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরম বা ঠাণ্ডা ভাপ দিনএতে ব্যথা কমে যাবে

বেশীক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন নাপ্রয়োজনে কিছু সময় পর পর অবস্থান পরিবর্তন করুন
মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না
#  বিছানায় শোয়া ও উঠার সময় যেকোন একদিকে কাত হয়ে হাতের ওপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন
#  পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে বসবেন নাসবসময় চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন
নরম ফোম ও জাজিমে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবেআপনার জন্য উঁচু, শক্ত ও সমান বিছানাই উত্তম
ভারী ওজেনের বোঝা বহন এড়িয়ে চলতে হবে
নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
হাই হিল জুতা না পরে বরং নরম জুতা ব্যবহারে অভ্যেস করুন
উঁচু কমোড ব্যবহার করুননিচু টয়লেট ব্যবহারে ব্যথা বাড়তে পারে
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবেপেট ভরে না খেয়ে বরং অল্প অল্প করে বার বার খাবেন

গরমে শিশুদের যত্নে করণীয়

সাধারণত শিশুদের গরম আমাদের থেকে বেশি। তাই গরমের সময় ওদের দিকে একটু বেশি খেয়াল রাখা উচিত।
শিশুকে আরামদায়ক ঠান্ডা বস্ত্র পরান
গরমের দিন শিশুকে পাতলা সুতির জামা পরানো ভালো। একদম ছোট্ট শিশু কাজ বা খেলাধুলা করতে পারে না ঠিকই, কিন্তু তাকে যদি বেশি কাঁথা বা কম্বল দিয়ে গরমের দিনে পেঁচিয়ে রাখা হয়, তাহলে তারও ‘হিট এগজোশন’ হতে পারে।
শিশুকে গাড়ির বাইরে নিয়ে যান
প্রচণ্ড গরমে গাড়ি দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় যদি গাড়ি কোথাও থামিয়ে রাখতে হয়, সে সময় কখনোই নিজেরা বাইরে দাঁড়িয়ে শিশুকে গাড়িতে রেখে আসবেন না; বরং নিজেরা ভেতরে বসে থাকলেও শিশুকে নিয়ে একজন খোলা বাতাসে বেরিয়ে আসুন। কেননা, শিশুর দেহের তাপমাত্রা এমনিতেই একটু বেশি থাকে। তাই অল্প গরমেই শিশুর দেহের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে ‘তাপে পরিশ্রান্তি’ আসতে পারে। এমনকি এর চেয়েও মারাত্মক
অবস্থা ‘হিটস্ট্রোক’ হতে পারে।
গরমে শিশুকে বেশি করে তরল খাওয়ান
শিশুকে বেশি বেশি করে তরল খাবার খাওয়াতে হবে। এমনকি শিশু তৃষ্ণার্ত না হলেও তাকে বারবার পানি খেতে দেওয়া প্রয়োজন। বেশি লাফঝাঁপ বা খেলাধুলা করলে গরমের দিনে একটি সাত-আট বছরের শিশুকে প্রতি ঘণ্টায় ছয় আউন্স পানি বা শরবত খেতে দিতে হবে। এর চেয়ে বড় শিশুদের আরো বেশি করে পানি/তরল খাবার দিতে হবে। সব সময় একটি পানির বোতল ভরে শিশুর নাগালের মধ্যে রাখলে ভালো হয়। এতে তৃষ্ণা পেলেই সে সেখান থেকে পানি নিয়ে খেতে পারবে।
শিশুকে রৌদ্রের তাপ থেকে দূরে রাখুন
গরমের মধ্যে শিশুকে খোলা মাঠে খেলতে না দিয়ে গাছের ছায়ায় বা ঘরের মধ্যে খেলার জন্য উৎসাহ দিন। শিশু যদি তারপরও বাইরে গিয়ে খেলতে চায়, তাহলে নিশ্চিত করতে হবে যে সে যেন খেলার মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে বিশ্রাম নেয় একনাগাড়ে না খেলে।
শরীর ঠান্ডা পানিতে মুছে দিন বা শরীরে পানি ছিটিয়ে দিন
এতে করে শিশুর শরীর ঠান্ডা থাকবে, যদি গরমে খেলার কারণে শিশুর মাথা ঝিমঝিম করে এবং বমি বমি লাগে, তাহলে একটি ঠান্ডা ঘরে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রচুর পানি খা‌ওয়াতে হবে। শরীরে পানি ঢেলে দিতে হবে বা ঠান্ডা পানি দিয়ে মুছে দিতে হবে। ঠান্ডা করে পানি দিয়ে শিশুকে গোসলও করানো যেতে পারে। এরপর ঘরে এয়ারকন্ডিশনার থাকলে চালু করে দিতে হবে এবং এই ফাঁকে ডাক্তার ডাকতে হবে। 

প্রতিদিন লাল চা খেলে কি উপকার হয়

লাল চা হয়তো অনেকেই পান করি। একটু আদা, একটু পুদিনা পাতা এর স্বাদ বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। সুন্দর গন্ধ আর রঙের জন্য লাল চা মানুষের কাছে প্রচলিত। তবে আপনি কি জানেন, প্রতিদিন লাল চা খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী?
লাল চায়ের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যাফেইন, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, মিনারেল, ফ্লোরাইড, ম্যাঙ্গানিজ ও পলিফেনল। চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। ট্যানিন, গুয়ানিন, এক্সাথিন, পিউরিন ইত্যাদিকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বলা হয়।
লাল চায়ের মধ্যে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর গুণ। প্রতিদিন তিন কাপ লাল চা খেলে মনোযোগ বাড়ে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা দেয় বিভিন্ন রোগ থেকে।
জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত এক প্রতিদিনে বলা হয়েছে লাল চা খাওয়ার উপকারিতার কথা। চলুন, জেনে নিই সেসবের কথা।
হার্টের জন্য ভালো
গবেষণায় বলা হয়, লাল চা খাওয়া কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের জারিত হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে। নিয়মিত লাল চা খেলে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে।
ক্যানসার প্রতিরোধে
লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এটি স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসারও প্রতিরোধে কাজ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
লাল চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। চার কাপ লাল চা প্রতিদিন গ্রহণ করলে প্রদাহ কমে।
মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া এর মধ্যে থাকা ফ্লোরাইড মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
মস্তিষ্ক ও স্নায়ু পদ্ধতিকে উদ্দীপ্ত করে
লাল চা রক্তের পরিবহনকে উন্নত করে। এটি মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সাহায্য করে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ায়। প্রতিদিন চার কাপ লাল চা খেলে মানসিক চাপ কমে।
হজম ভালো করে
এর মধ্যে থাকা ট্যানিন হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের সমস্যা এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। লাল চা অন্ত্রের প্রদাহ প্রতিরোধেও কাজ করে।

গর্ভাবস্থায় যে চারটি খাবার অবশ্যই খাবেন

গর্ভাবস্থায় কী খাবেন, কী খাবেন না—এ নিয়ে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। এ সময় শরীরে বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন। তবে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো গর্ভাবস্থায় খাওয়া ভালো। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।
ডিম
গর্ভাবস্থায় মা ও গর্ভস্থ শিশু দুজনেরই যত্নের প্রয়োজন হয়। এ সময় ডিম অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এটি গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
দই
দইয়ের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। গর্ভস্থ শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য দই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শাকসবজি
ফুলকপি, শালগম, পালংশাক এগুলোকে পুষ্টির শক্তির উৎস বলা হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি এ সময়টায় খাওয়া প্রয়োজন।
ওয়ালনাট
ওয়ালনাটের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন ও আঁশ। এটি স্ন্যাক হিসেবে খাওয়া যায়।
মটরশুঁটি
মটরশুঁটির মধ্যে রয়েছে আঁশ ও প্রোটিন। মটরশুঁটি গর্ভাবস্থায় খাওয়া ভালো। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। তাই এটিও খেতে পারেন।

৫টি ঘরোয়া উপায় কাশি কমান

একটানা কাশি খুব বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। কারই বা সহ্য হয় একটানা খকখক কেশে যেতে? এর থেকে দ্রুত মুক্তির পথ খুঁজি আমরা। সাধারণত ঠান্ডা ও ফ্লুয়ের কারণে কাশি হয়। তবে অ্যালার্জি, অ্যাজমা, এসিড রিফ্লাক্স, শুষ্ক আবহাওয়া, ধূমপান, এমনকি কিছু ওষুধ সেবনের ফলেও এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। লাইফস্টাইল ওয়েবসাইট উইকি হাউ জানিয়েছে কাশি দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়ের কথা।
1-মধু ব্যবহার করুন
মধু কাশি কমাতে সাহায্য করে এবং গলাব্যথা কমায়। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, মধু কখনো কখনো কাশিরোধী ওষুধগুলোর চেয়েও ভালো কাজ করে। মধু শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করে। তবে এক বছরের নিচের শিশুদের মধু খাওয়াবেন না। এতে খাদ্য বিষাক্ত হওয়ার সমস্যা হতে পারে। কাশি কমাতে এক কাপ লেবুমিশ্রিত চায়ের মধ্যে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
2- শক্ত ক্যান্ডি খেতে পারেন
এক পিস ক্যান্ডি খেয়ে দেখতে পারেন। ক্যান্ডি শক্ত কফ নরম করে দিতে সাহায্য করে এবং কাশি কমায়।
3- হলুদ
কাশি নিয়ন্ত্রণে হলুদ রীতিমতো ঐতিহাসিক ঘরোয়া উপাদান! এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি দ্রুত কাশি কমাতে সাহায্য করে।
4- আদা ও লেবুর শরবত
কাশি কমাতে লেবুর শরবতের মধ্যে আদা কুচি মিশিয়ে খেতে পারেন। আদা শ্লেষ্মা দূর করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে এক চা চামচ মধুও মেশাতে পারেন।
5- গার্গল করা
গার্গল করলে গলাব্যথা কমে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে ১৫ মিনিট ধরে গার্গল করুন। এভাবে বিরতি দিয়ে কয়েকবার করুন। এটি কাশি কমাতে বেশ কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি।

কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ, জানেন কি?

কিডনি দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট জানিয়েছে কিডনি রোগের লক্ষণগুলোর কথা।
১. প্রস্রাবে পরিবর্তন
কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এই সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।
২. প্রস্রাবের সময় ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।
৩.প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়।এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।
৪. দেহে ফোলা ভাব
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।
৫. মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া
লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিস্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।
৬. সবসময় শীত বোধ হওয়া
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।
৭. ত্বকে র‍্যাশ হওয়া
কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং র‍্যাশ তৈরি করতে পারে।
৮. বমি বা বমি বমি ভাব
রক্তে বর্জ্যনীয় পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
৯. ছোটো ছোটো শ্বাস
কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।
১০. পেছনে ব্যথা
কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? এবং কেন

এফিলিয়েট মার্কেটিং ইন্টারনেট মার্কেটিং এর একটি জনপ্রিয় শাখা। সহজ ভাষায় এফিলিটে মার্কেটিং হল অন্যের কোন প্রডাক্ট বিক্রয় করতে সাহায্য করা।
যেমন আপনি বিক্রেতাকে কোন ক্রেতা খুজে দিলেন বিনিময় বিক্রেতা আপনাকে কিছু কমিশন দিল।এই পুরো পদ্ধতিটাকেই এফিলিয়েট বলে। পুরো পুথিবীর প্রায় 75% এরও বেশী ইকমার্স সাইটে এফিলিয়েশন চালু আছে।এখন আপনার এসব মার্কেট প্লেস থেকে আপনার পছন্দের প্রডাক্ট বেছে নিতে হবে।এই কমিশনের হার পন্য ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে যে সকল বিষয় জানা  জরুরী:
• 
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিকেন এবং কিভাবে কাজ করে?
• এফিলিয়েটের জন্য উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস নির্বাচন।
• 
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য নিশ তৈরী করা
• 
এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা নেয়। (Amazon, aliexpress, Warrior Plus, Click Sure, ইত্যাদি)
• 
অ্যাফিলিয়েটের জন্য কিভাবে আবেদন করবেন।
• 
যে সকল বিষয় খেয়াল রাখে আবেদন করতে হবে।
• 
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে যে সকল বিষয় জানা দরকার।
• 
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ক্যাম্পেইন তৈরী।
• অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ইমেইল ক্যাম্পেইন।
• 
ট্রাফিক ম্যাথড ফ্রি।
• 
ট্রাফিক ম্যাথড পেইড।
• 
পেমেন্ট সিস্টেম।
আর এগুলো শিখতে হবে?

নিন্মোক্ত জিনিসগুলো জানা থাকলে আপনি খুব সহজেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ করতে পারেন। একবার মিলিয়ে নিনতো আপনার নিচের জিনিসগুলো আছে কিনাযদি জানা না থাকে কিভিণ্ন youtube ও blog থেকে tutorial দেখে শিখে নিন। নতুবা আমার দ্বিতীয় পোস্ট এর জন্য অপেক্ষা করুন।
বিস্তারিত চলবে :….